আমরা সামান্য রোদ ছেড়ে ছায়ায় গিয়ে বসি, কিন্তু জাহান্নাম পেরিয়ে জান্নাতে যাওয়ার চেষ্টা করি না। -আহমাদ বিন হারব র.
আজ পুরো পৃথিবী শুধু একটা ভাইরাসের জন্য থমকে গেছে। যারা বলে আমি কোন কিছুতেই ভয় পায় না, তারা আজ ভাইরাসে ভীত।
আজকে ভাইরাস থেকে বাঁচতে মানুষ উতলা হয়ে গেছে। আপন জনদের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে হাজারো কৌশল অবলম্বন করছে। যে যা বলতেছে তাই করতেছে। এতো কিছু কী শুধু মাত্র ভাইরাস থেকে বাঁচতে?
কী অদ্ভুত না! হাজারো বছর আগে আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিলের মাধ্যমে জাহান্নামের কথা বলেছেন। জাহান্নামের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেছেন, জাহান্নাম থেকে বাঁচার উপাই বলে দিয়েছেন। আল্লাহর ইবাদতের বিনিময়ে জান্নাত দিবেন তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা তা মানি না। আর মানলেও তা আমলে নেই না।
আজ যারা ভাইরাসে ভীত, তাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন। ভাইরাসকে ভয় পাচ্ছেন, ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তাকে কেন ভয় পাচ্ছেন না? ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য হাজারো চেষ্টা করছেন, জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য কী চেষ্টা করছেন?
সত্যি যদি আপনি ভাইরাসের ভয় পেয়ে থাকেন তাহলে এতটুকু জেনে রাখেন, ভাইরাস থেকে আজ মুক্তি পেলেও, জাহান্নাম থেকে মুক্তি নাই। ভাইরাস থেকে বাঁচার চেষ্টা না করে জাহান্নাম থেকে বাচার চেষ্টা করেন। তাহলে ভাইরাস থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন।
ভাইরাসকে নয় ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করুন। যিনি এই ভয়ানক ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তা এবং ধ্বংস শাধনকারী তাকে ভয় করুন। একটু চিন্তা করুন, যিনি এই ভাইরাস সৃষ্টি করতে পেরেছে তিনি না জানি আরো কতো ভয়ানক রোগ সৃষ্টি করতে পারেন। আরো একটু চিন্তা করুন, যিনি পৃথিবী এত কম সময়ের জন্য থমকে দিয়েছেন, তিনি আখেরাতে তাহলে তাদের কি অবস্থা করবেন, যারা আল্লাহর ইবাদত করে না।
আপনার যদি সত্যই ভয় হয়ে থাকে তাহলে জাহান্নামের ভয় ভীত হন। জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন তাহলে ভাইরাস থেকেও বাঁচা যাবে। আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। আল্লাহর ভয়ে পাঁচবার নামাজের জন্য অযু করুন তাহলে আর ভাইরাসের ভয়ে হাত ধুতে হবে না। আল্লাহর ভয়ে পর্দা করুন তাহলে আর মাস্ক পড়তে হবে না। আল্লাহর ভয়ে ভীত হন তাহলে আর ভাইরাসে ভয় থাকবে না।
সুস্থ থাকুন আর তাওবা পড়ুন। আর পৃথীবী সকলের জন্য দোয়া করুন।
"তোমরা আল্লাহ'র নিকট ক্ষমা কেন চাচ্ছ না ? যাতে তোমাদের প্রতি রহমতের আশা করা যেতে পারে।" (সূরা নামল, ২৭ : ৪৬)
||সানজিদা শাহীনুর||

No comments:
Post a Comment