www.ullas24.com

Breaking

22 June, 2021

বই পড়া সানজিদা শাহীনুর

 আজ মুসলিম কত ভাবে যে পথভ্রষ্ট হচ্ছে তার কোন হিসাব নেই। পথভ্রষ্ট হবেই বা না কেন? মুসলিমের পথভ্রষ্টার অন্যতম কারণ 'না পড়া'। এটা অবশ্য আমার ব্যক্তিগত মতামত। কারণ, আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা. কে প্রথম নবুয়াত দেওয়ার সময় প্রথম যে শব্দ বলেছিলেন, তা হলো, "ইকর" যার অর্থ পড়। অথচ আজ মুসলিম সমাজের কেউ পড়তে পছন্দ করে না। দুঃখিত, একটু ভুল বললাম। সবাই পড়তে পছন্দ করে তবে কুরআন, হাদিস বা ইসলামি বই নয়, উপন্যাস বা গল্প পড়তে পছন্দ করে। মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষ মুসলিমের লেখা বই খুবই কম পড়ে, পড়ে হলো বিধর্মিদের লেখা বই। যে বই পড়ে ঈমান নষ্ট হয় + সময়ও।



বই পড়ার মত ভালো অভ্যাস আমার মতে আর নেই। অনেকেই বলে, বইয়ের মত পরম বন্ধু আর নেই। বই কখন সজ্ঞ ছাড়ে না। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে কারো কখনো একাকিত্ব লাগবে না। আমার মতে বইয়ের মত বন্ধু আর নেই। কথায় আছে, জানতে হলে পড়তে হবে। যার জানার ইচ্ছা তাকে অবশ্যয় পড়তে হবে।


বর্তমানে মানুষ সময় এতটাই নষ্ট করছে যে, একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত কাজও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারে না সময়ের অভাবে। অথচ সে অযথা সময় ব্যয় করে ফালতু চিন্তা করতে, গেইম খেলতে, ভিডিও দেখতে আরো অনেক কিছুতে। অথচ সময়ের মূল্য যে কতটা সেটা প্রত্যেক ব্যক্তি জানে। কথায় আছে, "সময় গেলে সাধন হবে না"। সবাই জানে "সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না" তবুও আজ মানুষ সময় কাজে লাগাই না। অহেতুক সময় নষ্ট করে।


আচ্ছা সময় সঠিক কাজে ব্যয় করা আর বই পড়ার মধ্য কি কোন পার্থক্য আছে? আরো সহজ ভাবে বলি, এইযে সারাদিন অহেতুক সময় নষ্ট করি, নানা ভাবে মূল্যবান সময় নষ্ট করি, সেই সময়টা যদি বই পড়ায় ব্যয় করা হয় তাহলে কী খুব বেশি সমস্যা হবে? না, কোন সমস্যা হবে না। অনেকের অনেক অজুহাত বই না পড়ার ক্ষেত্রে।


কিছ অজুুহাত/প্রশ্ন অনেকে করে থাকে। প্রশ্ন/অজুহাত গুলো অবশ্য আমার কাছে খুবই ফালতু মনে হয়। কিছ অজুহাতু/প্রশ্ন আর তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

১. বই পড়ার মত সময় নাই।

= গেইম না খেললে আর গল্প করাই সময় না নষ্ট করলেই বই পড়ার সময় পাওয়া যাবে।

২. বই কোথায় পাবো?

= উপন্যাস, পল্পের বই সংগ্রহ করতে পারলে ইসলামি বইও সংগ্রহ করা যাবে।

৩. বই কিনার টাকা নাই।

= কসমেটিকে বেশি টাকা খরচ না করে বই কিনা যেতে পারে।

৪. বই পড়ার ধৈর্য্য নাই।

= ৫০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস পড়ার ধৈর্য্য থাকলে ইসলামি বই পড়ারও ধৈর্য থাকবে। শুধু ইচ্ছাটা লাগবে।


অনেকে বই কখন পড়বে সেই সময়টা বের করতে পারে না। সবার সুবিধার্থে আমি কিছু পদ্ধতি বলে দেই বই পড়ার।

১. যাতায়াত করার সময় অযথা বসে না থেকে বই পড়া যেতে পারে। বই পড়ার কোন পরিস্থিতি না থাকলে তাসবিহ পাঠ করা যেতে পারে।

২. কারো জন্য অপেক্ষা করার সময় অযথা সময় নষ্ট না করে বই পড়া যেতে পারে। অথবা তাসবিহ পাঠ করা যেতে পারে।

৩. গেইম না খেলে বা অহেতুক গল্প না করে বই পড়া যেতে পারে অথবা তাসবিহ পাঠ করা যেতে পারে।

৪. ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় না করে, একটি সুন্দর বই পড়া যেতে পারে অথবা তাসবিহ পাঠ করা যেতে পারে।


কয়েকটি উপায় বের করে দিলাম বই পড়ার এবং সওয়াব লাভের। তবে বই পড়ার জন্য একটা কাজ করতে হবে সেটা হলো, সব সময় সাথে সুন্দর একটি ইসলামি বই রাখতে হবে। তাহলে আমাদের সময় কখনো অযথা ব্যয় হবে না আবার বই পড়ার অনেক সময় পাওয়া যাবে।


জানি না এই লিখা পড়ে কে কতটা উপকৃত হবে। তবে যে বই পড়ার মত অভ্যাস করতে পারবে সে কখনো তার জীবনের সামান্যতম সময়ও নষ্ট করবে না। সবাইকে বই পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। জাজাকাল্লাহু খাইরান।



     ||বই পড়া||

সানজিদা শাহীনুর

No comments:

Post a Comment

Pages