হঠাৎই সেদিন ইফতিকে একটা শপিং মলে দেখলাম দূর থেকে। বউয়ের জন্য শাড়ী কিনছিলো হয়তো। এতো এতো শাড়ী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার মধ্যে থেকে সবুজ রঙের শাড়ীটাই ইফতি বেছে নিলো। কেনো! ওর বউয়ের কি সবুজ ভালো লাগে? নাকি আমার ভালোলাগার জিনিস গুলো ও ওর বউয়ের মধ্যে দেখতে চায়!
ভালোই বিয়ে করে সংসার গুছিয়ে নিয়েছে। শুধু আমিই ওর কথা ভেবে ভেবে এখনো সাদমানকে মেনে নিতে পারিনি।
সাদমান খয়েরি রঙের একটা শাড়ী দেখিয়ে বলল, দেখো তো এটা চলবে? রঙটা আমার খুব পছন্দের।
মৃদু হাসি দিয়ে বললাম, যার জীবন থেকে সব রঙ মুছে গেছে তাকে জিজ্ঞেস করে কি হবে! আপনার ভালো লাগলে নিয়ে নিন।
সাদমান আমাকে একবারো জিজ্ঞেস করলো না আমার কি রঙের শাড়ী পছন্দ। একজনই ছিলো যে আমার সব ভালোলাগা খারাপ লাগার তোয়াক্কা করতো। সেও আজ অন্য কারো হয়ে অন্য কারো ভালোলাগার দাম দেওয়ায় ব্যস্ত। এটাই হয়তো বাস্তবতা।
সকালে সাদমানের জন্য চা বানাচ্ছি এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজা খুলে দেখি একজন ভদ্র লোক দাঁড়িয়ে আছেন।
কাকে চান বলতেই লোকটা বলল, একটা পার্সেল আছে বুঝে নিন।
ভেতরে এসে প্যাকেট খুলে দেখি সবুজ রঙের শাড়ীর সাথে ছোট একটা চিরকুট। তাতে লেখা....ছোট বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছিলো তাতো তুমি জানতে। ওর বিয়ের শপিং করার সময় সবুজ রঙের শাড়ীটা দেখে বারবার তোমার কথা মনে পড়ছিলো তাই....পড়তে ইচ্ছে না হলে ফেলে দিও কিন্তু জেনে নিও তোমার জায়গাটা আজো কেউ দখল করতে পারে নি। আমি একমাস পর দেশের বাইরে যাচ্ছি অফিসের কাজের জন্য।তেমন সুযোগ সুবিধা পেলে আর ফিরবো না।
একদিকে ইফতির চিঠি পড়ে যেমন দুচোখ গড়িয়ে জল পড়ছিলো আরেকদিকে সেই চোখের জল মুছে মুখে হাসি নিয়ে সাদমানের জন্য ব্রেকফাস্ট নিয়ে গেলাম। মেয়েদের মনের চাপা কষ্ট সংসারের মধ্যে এভাবেই চাপা পরে যায়। কেউ জানতেও পারে না কখনও কতটা ঝড় বয়ে যায় ভেতরে।
সাদমান চা খেতে খেতে বলল, খয়েরি রঙের শাড়ীটা পড়লে না এখনো! আজকে পারলে একবার পড়ো। বিকালে তোমাদের বাসায় যাবো।
সাদমানের মন রাখার জন্য শাড়ীটা পড়ে বিকালে বাবার বাড়ি গেলাম।বাবার শরীরটা আমার বিয়ের পর থেকে একটু ভালোর দিকে এসেছে।বাবার অসুস্থতার জন্যই সাদমানকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম। কাল রাতে বহুবার ভেবেছিলাম সাদমানকে বলবো ইফতির কথা। আমি এখনো চাই ইফতির কাছে ফিরে যেতে। কিন্তু আমাকে আর সাদমানকে দেখে বাবার মুখে যেই হাসি আমি দেখেছি সেই হাসিটুকু নষ্ট করার অধিকার আমার নেই।
বাসায় ফিরে ইফতির দেয়া শাড়ী আর চিঠি ফেরত পাঠিয়ে দিলাম ইফতির ঠিকানায়। চিরতরে মুছে দিলাম ইফতির সমস্ত স্মৃতি।
Zannatul Eva

No comments:
Post a Comment