ন্যায় অন্যায় জানি না
কবি রামদাস বিশ্বাস
তোমার কথা রাখলে মনে কেমন করে হব টাকার কুমির,
কেমন করে হব বল ধনী।
তোমাকে তাই চাই না আমি চাই যে হতে ধনী
টাকা থাকলে বিশ্বমাঝে হব আমি বিশাল জ্ঞানীগুণী
সবার কাছে হব আমি ধনে মানে মানী
করবে সবাই প্রণাম আমায় মাথা নত করে
সেতো আমি জানিই জানি জানি।
এখন কারো কাছে গেলে সবাই বলে
সবাই বলে আমায়
তোমার পোষাক আসাক ভদ্র নয়কো মোটে
শুধু শরীর থেকে বোটকা গন্ধ ছড়ায়।
যা সরে যা হাভাতের দল আমার থেকে দূরে
ঘুরঘুরঘুর মরিস কেন কুত্তামাফিক ঘুরে।
যাদের আছে অনেক টাকা দালান বাড়ি সাতমহলা যেন
তাদের থেকেও অনেক বড় হব
হে ভগবান গরীব আমায় করলে কেন হেন?
আধপেটা ভাত তাও জোটে না
ফুটো ঘরের চালা
কাঁশাপিতল নেইকো ঘরে
একখানা সেই ভাঙা সানকি থালা।
নুন আনতে পান্তা ফুরায়
এমন আমার কপালখানা মন্দ।
পেটের জ্বালায় চাইলে কারো পানে
চোর ভাবিয়া লোকে করে সন্দ।
যদি আমি চুরিই করি অভাবের তাড়নায়
আমি হলাম চোর
চোরের সাজা গারদখানা জানি
যে গারদে হয়না কভু ভোর।
সেথায় জানি দুমুঠো ভাত দুখান পোড়া রুটি
পাথর ভাঙা কঠিন কাজের শেষে
হয়তো যাবে জুটি।
এও জানা আছে , আমি জেলে গেলে
বৌটা আমার পেটের জ্বালায় দেহ বেঁচে খাবে
অবুঝ পরাণ নাবালক দুই ছেলে
হারিয়ে দিশা পাকা চোরই হবে।
মন্ত্রী আমলা লুট করে খায়
তারা সবাই সাধু সেজে বাঁচে।
আমার দেশে বিনা দোষে চোরের সাজা আছে
অভাবি বৌ গোপন রাতে
জেলারবাবুর কাছে গতর বেঁচে।
জেলখানা তো চোর বানাবার আজব এক কারখানা।
জেলের ঘানি টেনে ঘরে এসে
হয় না চোরের পুনর্বাসন বড়লোকের দেশে।
ছেলের দিকে আঙুল তুলে বলবে প্রতিবেশী
ওরে, তোর বাবা যে পাকা চোর , মা হয় সেবাদাসী।
হে ভগবান, তোমায় আমি ডাকব কখন বল
পেটের জ্বালায় মনটা আমার ভীষণ টলমল।
ডাকতে গেলে চোখের সামনে শূন্য ভাতের থালা
দেখে দুচোখ জলে ভরে, জঠরজোড়া জ্বালা।
হে দয়াময়
দেবদেউলে দেয় যে প্রসাদ
দরগাতলায় সিন্নি
একে নাকি ঘুষ বলে না, বলে আমার গিন্নি।
ঘুষ নেওয়াতে পরমেশ্বরের হয় না যদি পাপ
আমার বেলায় হে দয়াময় করে দিও মাফ।
১৫/৫/২০২১
**********************************
No comments:
Post a Comment