-"ইশ! এই বৃষ্টি মুখর রাতে এতো গরম লাগছে কেন? তারওপর শরীরে এতো তাপ লাগছে যে শরীর জ্বালা করতে শুরু করেছে। এতো তাপ লাগছে কোথায থেকে?"
চোখ বন্ধ রেখেই চিন্তা করছিলাম। ঘুমের ঘোরে শরীরে গরম তাপ লাগায় ঘুম ভেঙে গেলেও চোখ যেন আর খুলতে পারছি না। গরম তাপের উৎস খুঁজতে কষ্ট করে চোখ খুলেই আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। আমার পুরো ঘর জুরে আগুন জ্বলছে। চারপাশ শুধু কালো অন্ধকারে ঢাকা। আমি বুঝতে পারছি না এমন ঘন অন্ধকারে আমি কিভাবে বের হবো। আমি বিছানাই ছটফট করছি এই ঘর ধেকে বের হবার জন্য। আগুন আমার দিতে দ্রুত বেগেই যেত এগিয়ে আসছে। আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে আব্বু আম্মুকে ডাকছি, বাঁচার জন্য ছটফট করছি।
হাত দিয়ে হাতরাচ্ছি আশেপাশে যেন এমন কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায় যেটা দিয়ে আগুন নিভাতে পারি। কিন্তু আমি এমন কোন কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। আমার কান্না যেন কেউ শুনতেই পাচ্ছে না। আগুন আমার পায়ের কাছে চলে আসে। সেই আগুনের তাপে আমার পুরো শরীর যেন ঝলসে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি আমার রঙিন জীবনের ইতি ঘটল। আমি হয়ত আর কখনো কারো সাথে দেখা করতে পারবো না। আমার জামাতে আগুন লাগা মাত্রই আমি শেষ বারের মত সব শক্তি দিয়ে আব্বু আম্মুকে ডেকে উঠলাম।
আম্মুঃ "কিরে কি হলো? এভাবে চিৎকার করে উঠলি কেন?"
আব্বুঃ "নুহা, কি হয়েছে মা? এভাবে চিৎকার করে উঠলা কেন? তুমি এভাবে নিচে বসে আছো কেন?"
চারপাশ কেন যেন ঝাপ্সা লাগছে দেখতে। আব্বু আম্মুর কণ্ঠ শুনতে পারছি কিন্তু কি বলছে সেটা আমার মাথায় ঢুকছে না। চোখ ডলে চারপাশে চোখ বুলালাম ভালো করে। আব্বু আম্মু আমার দুপাশে বসে আছে, ভয়ার্ত চোখ নিয়ে আমাকেই পর্যবেক্ষণ করছে। জানালার কাঁচ ভেদ করে রোদের কিছু অংশ আমার পায়ে এসে পরেছে। সকালের মিষ্টি রোদের তাপ অনুভব করতে ভালো লাগছে। আমি চারপাশে পিটপিট করে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি আমি কোথায়।
আম্মুঃ " কিরে কিছু বলছিস না কেন? এমন হাবলাম মত চারপাশে তাকিয়ে কি দেখছিস?"
আব্বুঃ "তুমি কি স্বপ্ন দেখেছ মা?"
"স্বপ্ন"... অস্পষ্ট স্বরে নিজের অজান্তেই মুখ থেকে শব্দটা বের হলো যেন। আমি দ্রুত চিন্তা করতে লাগলাম। আমার সাথে আসলে হচ্ছে টা কি? এখন তো সব কিছুই পরিস্কার, ঝকঝকে। আব্বু আম্মুর কণ্ঠও শুনতে পাচ্ছি স্পষ্ট। স্বপ্ন হলে নিশ্চয় আমি কোন শব্দ শুনতে পারতাম না আর এতো রঙিন ও দেখতাম না কিছু। এটা তাহলে বাস্তব।
কিন্তু একটু আগে যেটা ঘটল আমার সাথে? তবে সেটা? সেটা কি তবে স্বপ্ন ছিল! হ্যা, স্বপ্ন ছিল। এতো ভয়ংকরও স্বপ্ন হয়। এমন ভয়ংকর স্বপ্নের মানে কি আর এমন স্বপ্ন আমি দেখলামই বা কেন? অনেকে বলে যেটা নিয়ে চিন্তা করা হয় সেটাই নাকি স্বপ্ন হয়। যদি সেটা হয় আমার চিন্তার বিষয় বস্তু কি ছিল? উফ আমার কিছু মনে পড়ছে না কেন? ব্রেনে চাপ দিতে শুরু করলাম মনে করার জন্য।
হ্যা, মনে পরেছে। গতকাল আমার কলেজের এক সিনিয়র আপুর সাথে দেখা হয়েছিল। আপু সাথে মাঠের এক কোণে বসে কিছুক্ষণ কথাও বলেছিলাম। তখন আপু আমাকে অনেক সাজেশন দিচ্ছিল। আমি যেন টািট পোশাকনছেড়ে শালীন পোশাক পড়ি, নামাজ যেন পড়ি। নামাজের গুরুত্ব নিয়ে কিছু বলছিল, নামাজ না পড়ার শাস্তিশরুপ ভয়ানক আগুনে পুরতে হবে সেটাও বলছিল। আরোও অনেক কিছু বলছিল। আমি সেটা নিয়েই চিন্তা করছিলাম রাতে।
রাতে আপুর কথা গুলো চিন্তা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম বুঝতে পারি নাই। দরজাও লাগানো হয় নাই। আব্বু আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম উনারা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। নিজেকে শান্ত রেখে উনাকের যা তা বুঝিয়ে নিজেদের রুমে পাঠালাম। উরনা ঠিক করে চুল বাধতে গিয়ে বুঝতে পারলাম আমি এখনো ঘামছি। রাতে চুল না বেধে শুয়ে ছিলাম। চুল গুলো গলা ঘাড়ে লেপ্টে আছে। আমার মাথা থেকে কিছুই স্বপ্নটা দূর হচ্ছে না। আযাব বুঝি এতোটাই ভয়ানক হয়!
-
-
-
"দুঃস্বপ্ন"
সানজিদা শাহীনুর

No comments:
Post a Comment