খুব মনোযোগী হয়ে মেসেন্জারে বান্ধবীদের সাথে কথা বলছিলাম আর মন প্রাণ উজার করে হাসছিলাম৷ কেউ তো আর কারো সুখ সহ্য করতে পারে না। আমার আম্মুরও আমার সুখটা সহ্য হলো না। তাই আমার মনোযোগী কাজে বাম হাত ঢুকিয়ে দিল এক ডাক। ফোনটা রেখে ছুট দিলাম কথা শোনার জন্য। কিছুক্ষণ পর রুমে এসে দেখি ছোট ভাই ফোন হাতে দাঁত কেলিয়ে হেলেদুলে হাসছে। আমার ফোনে এমন কোন পিক বা ভিডিও নাই যে সে হেলেদুলে হাসবে। উৎসুক মন নিয়েই জিজ্ঞেস করলাম
--এমন দাঁত কেলিয়ে হাসছিস কেন?
--আপু তোমার চ্যাট লিস্ট দেখে হাসছি।।
--আমার চ্যাট লিস্ট পাইলি কই? আমার মেসেঞ্জারে সুন্দর করে পাসওয়ার্ড দেয়া আছে।
--মেসেঞ্জারে না তো।
--তাহলে??
--এই যে তোমার বান্ধবীদের সাথে কথা বলার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছ সেই গুলো দেখে।
এবার বুঝলাম, সে আমার গ্যালারি, থুক্কু উল্টা বললাম, আমার ফোনের গ্যালারিতে ঢুকেছে। সকালে বেশ কয়েকজনের সাথে চ্যাট করার কিছু স্ক্রিনশট নিয়েছিলাম পোস্ট করবো বলে। সেগুলো দেখেই হাসছে হয়ত।
--আপু তুমি সবার চ্যাটের এই পিক গুলো কি করবা?? কারো কারো মেসেজ তো গত বছরেরও আছে।
--হ্যা, আছে তো।
--কি করবা তুমি?
--পোস্ট করবো।
--কারণ, এই গুলো স্মৃতি। রেগুলার বা মাঝে মাঝে কথা বলার মাঝেই এমন কিছু সময় চলে আসে যে সময় গুলো অনেক স্পেশাল হয়। সে সময়টা মনে থাকে কিছুদিন কিন্তু পরে আবার ভুলে যায়। এরপর যখন তাদের সাথে যোগাযোগ কম হয় বা একদম হয় না তখন তাদের খুব মিস করি। নানা রকম সমস্যার জন্য হয়ত কথা বলা হয় না, কিন্তু স্মৃতি গুলো ঠিকই মনে পরে, আবার ভুলেও যায় কখনো। যখন খুব মনে পরে বা খারাপ লাগে তখন সেই স্পেশাল মোমেন্টের কথাগুলো পড়তে ইচ্ছে করে। সবারটা তো এক সাথে পড়া যায় না। তাই স্ক্রিনশট দিয়ে রেখেছি পোস্ট করে রাখবো বলে।
--সবাই তো ডে দেয়, তুমি কেন পোস্ট করবা?
--ডে তো ২৪ ঘন্টা পরে আর থাকে না৷ আর পোস্ট করলে সব সময়ের জন্য থেকে যাবে।
--ফোনের গ্যালারিতেও তো রাখতে পারো। পোস্ট করলে যদি ওরা রাগ করে?
--গ্যালারিতে রাখলে শুধু আমি দেখতে পারব। ওরা তো কেউ দেখতে পারবে না। তাদের ট্যাগ দিয়ে পোস্ট করবো যেন ২/৩/৪ বছর পরেও যদি তাদের ইচ্ছে হয় তাদের আইডি ঘুরে দেখার তখন তারা আমার ট্যাগ দেওয়া পোস্ট দেখতে পাবে। তখন তাদেরও মনে পড়বে সেই একসাথে কাটানো স্পেশাল মোমেন্টগুলো। সবার মনে নাও হতে পারে কিন্তু ভালো লাগবে।
--তোমার কি সুন্দর বুদ্ধি গো আপু।
--ধুর এটা কোন বুদ্ধি হলো।
--তাহলে কি হলো?
--কিছুই না।
--আচ্ছা আপুরা যদি রাগ করে?? কারণ পোস্ট গুলোতো অনেক ফানির।
--হুম, ফানি বলেই তো স্ক্রিনশট দিয়েছি। রাগ করবে কিনা জানা নাই। হয়ত কেউ রাগ করবে, হয়ত কেউ রাগ করবে না। জানি না আমি।
--রাগ করে যদি বকা দেয় তোমাকে??
--তাহলে বকা শুনবো, দোষ করলে তো বকা শুনতেই হবে তাই না!
--হুম, তবে আমি চায় তোমার বান্ধবী গুলো যেন তোমাকে বকা না দেয়।
--হাহাহা। তাই বুঝি...
--হুম। আচ্ছা আপু একটা প্রশ্ন করি?
--আগে আমার ফোনটা আমার হাতে দে তারপর যত প্রশ্ন আছে কর।
--অনেক আপু তোমাকে 'লাভ ইউ' বলেছে, সবার উত্তরেই তুমি 'হেট ইউ' কেন বলেছ?
--হাহাহাহা।
--হাসছো কেন??
--আসলে ভালোবেসে 'লাভ ইউ' বলাটা কমন, ভালো না বেসেও 'লাভ ইউ' বলা এখন কমন হয়ে গেছে৷ তাই এই কমন দুটো শব্দ দিয়ে কেন আমি আমার মনের গভীর অনুভূতি বুঝাব বলত। আমার মনের অনুভূতি এতো সস্তা না যে যাকে তাকে বিলিয়ে বেরাব। তাই যাকে আমি আমার মন থেকে ফিল করি তাকেই শুধু আমি আমার মনের অনুভূতি শেয়ার করি 'হেট ইউ' বলার মাধ্যমে৷ আমি কিন্তু কাউকে 'লাভ ইউ' বলি না। আর সবাইকে 'হেট ইউ' ও বলি না। যাকে বলি সে অনেক স্পেশাল আমার কাছে।
--অনেক আপু তো রাগ করেছে তোমার উপর।
--সেটা তাদের বিষয়। আমার অনুভূতি তারা বুঝতে না পারলে সেখানে আমার দোষ কোথায়?
--তোমাকে বুঝতে পারে না, এতে কষ্ট হয় না তোমার?
--কখনো হয় আবার কখনো হয় না। আমাকে যে বুঝতেই হবে এমনটা প্রমিস নিয়ে তো তাদের কে আমি ভালোবাসি নাই। তাহলে কষ্ট লাগবে কেন। আমি আমার মত ভালোবাসতে পছন্দ করি।
--তোমার তো দেখছি স্টাইলই আলাদা।
--অবশ্যই আমার ভালোবাসার স্টাইল আলাদা হতে হবে। আফটার অল, আমি মানসিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিনা সার্টিফিকেটের রোগী।
--হাহাহাহা। আপু তুমি না খুব মজা করে কথা বলো।
--হাহাহা, আমি জানি, নতুন কিছু থাকলে বল।
--আচ্ছা আপু আরেকটা প্রশ্ন।
--উফ, তুই তো দেখছে খুবই জ্বালাতন শুরু করছিস। এতো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না আমি। যা এখন।
--এইটা লাস্ট প্রশ্ন, প্লিজ প্লিজ আপু।
--এইটাই যেন লাস্ট হয়। নয়লে তোরে আমি ধাক্কা দিয়ে নর্দমায় ফেলে দিবো।
--আচ্ছা।
--এখন ফটাফট প্রশ্নটা করে ফেল।
--সবাই 'বাই' বা অন্য কিছু বলে বিদায় দেয়। তুমি সবাইকে সালামের সাথে 'টাটা' বলেও বিদায় দাও কেন?
--ভাই তুই কিরে? একটু সময় মেসেজ গুলো পড়ে সব কিছু খুটেখুটে দেখে নিয়েছিস। আর আমি এতোদিন সবার সাথে কথা বলছি, কেউ এভাবে জানতে চায় নাই। তুই আসলেই একটা ত্যাদর।
--হিহিহি, তোমার ভাই তো।
--কি বললি??
--না না, কিছু না। বলো তুমি
--বাই বলতে ভালো লাগে না আমার।
--কেন??
--কিছুসময়ের জন্য হোক বা বেশি সময়ের জন্য হোক দুটো ক্ষেত্রেই বাই শব্দটা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাই শব্দটা কেন শব্দ শুনলে মনে হয় যেন আমাকে একে বারের জন্য বিদায় জানাচ্ছে। এটা পুরোপুরি আমার মনের ভাবনা যদিও। তাই বাই শব্দটা বলতে ভালো লাগে না। কেউ বললে কিছু বলি না। তবে আমি বলি না।
--ওহ আচ্ছা। [চিন্তার ভাব করে]
--হয়েছে তোর ইন্টারভিউ নেয়া। এখন যা।
--আচ্ছা আপু...
--আবার কি??
--না মানে, টাটা দিয়ে তুমি বুঝাও?
--আমার কাছে টাটা মানের অর্থ আবার যেন দ্রুত কথা বা দেখা হয়। এটা আমার ব্যক্তিগত অর্থ।
--ওহ। আচ্ছা
--এবার ভাগ। নইলে মাইর লাগাবো।
দরজা থেকে পেছন ফিরে তাকিয়ে
--আপু...
--কি হলো আবার?
--না মানে, টাটা
কথা শেষ করেই দিল এক ভো দৌড়। ওর দৌড় দেখে আমি তো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। হাহাহা।
No comments:
Post a Comment